লাফায়েট সেমেটারী ট্যুর

ফুলের শুভেচ্ছা জানানো কিছু সমাধি

এই হ্যালোইনে টুলেইন ইউনিভার্সিটি হন্টেড ট্যুরের আয়োজন করেছিল।লাফায়েট সেমেটারীতে হন্টেড ট্যুর হবে।আমি ট্যুরের কথা শোনার পর থেকে বেশ উত্তেজিত।কেমন হবে/কি দেখাবে…মনে মনে অনেক কিছুই চিন্তা করে ফেলেছিলাম।মনে মনে হয়তো এইটাও আশা করে ফেলেছিলাম… কে জানে কোন ভূতও হয়তো দেখে ফেলতে পারি!!! কিন্তু তৌফিক যখন বললো ট্যূর হবে দিনের বেলায়,তখন একটু আশাহতই হলাম,বলা চলে।কি আর করা আমার ভূত দেখার সকল আশাই ত্যাগ করলাম।ইশ… কেন যে ভূতগুলো দিনের বেলায় বের হয় না!!!


যা হোক ট্যুরের দিন আমরা যথা সময়ে ইউনিভার্সিটিতে গিয়ে উপস্থিত হলাম।সেখান থেকে ইউনিভার্সিটির বাসে করে লাফায়েট সেমেটারী।সেমেটারীটা দেখে প্রথম দর্শণেই বেশ অবাক হলাম।সমাধিগুলো প্রত্যেকটা ছোট ছোট ঘরের মতো।প্রতিটা সমাধির আবার দরজাও আছে।সেমেটারীটা বেশ গাছপালায় ভর্তি।অন্যরকম শান্ত-স্নিগ্ধ একটা পরিবেশ।তবে এই ভেবে কিছুটা অবাক হচ্ছিলাম যে আমাদের দেশে কবরস্থানগুলোতে যাবার জন্য কত রকম বিধি নিষেধ আছে… আর এই দেশে কবরস্থানগুলোতেও ট্যূর হয়!! হায়রে আজব দেশ!!!

কিছুক্ষনের মধ্যেই আমাদের ট্যুর গাইড চলে আসলো।গাইডের বয়স আমার দাদীর মত হলে কি হবে উনি আমার থেকেও স্মার্ট।উনার সব চেয়ে ভাল গুন হলো,উনি তার কথা দিয়েই যে কাউকে তার দিকে আকর্ষন করে রাখতে পারে।এই না হলে ট্যুর গাইড! উনি আমাদের বললেন এই সেমেটারীটা স্থাপিত হয় ১৮৩৩সালে।তবে প্রাথমিক অবস্থায় সমাধিগুলো এমন ঘরের মত ছিল না,সমতল ছিলো।কিন্তু কয়েক বছর পর বন্যায় পুরো সেমেটারী ওলটপালট হয়ে যায়।পুরো এলাকায় দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পরে।ফলে সেই সময় ডাক্তাররা মনে করেছিল এটা কোন অসুখের কারন হতে পারে।সে কারনে সেই সময়ে সবাই মনে করে এই সেমেটারীর সংষ্কার করা প্রয়োজন।আর যাদের আত্মিয়দের সমাধি হারিয়ে গিয়েছিল,তারা বিশেষ করে চাচ্ছিল সমাধিগুলো এমনভাবে যেন সংষ্কার করা হয় যাতে কোন প্রাকৃতিক দূর্যোগও এগুলোর আর কোন ক্ষতি করতে না পারে।সেই সময় লাফায়েট সেমেটারী ছিল লাফায়েট সিটির ভেতরে।যা এখন নিউ অর্লিন্সের অর্ন্তগত।

এখানে কবরের জায়গার অনেক দাম,আর প্রতি বছর এই জায়গার জন্য কবরের মালিকাধীন পরিবারদের ট্যাক্সও দেয়া লাগে… এ কারনে তারা অল্প জায়গা কিনে পারিবারিক সমাধির জন্য।তবে দেয়াল সমাধিরও কিছু জায়গা তারা কিনতে পারে,সেটা তুলনামূলক সস্তা। পরিবারের কেউ মারা গেলে তাদের সেই জায়গার মধ্যেই সমাধিস্থ করা হয়।প্রতি বছর একটা নির্দিষ্ট সময়ে সব সমাধি সংষ্কার করা হয়।সেই সময় কেউ কেউ নতুন রং-এ রাঙ্গিয়ে তোলে তাদের আপন জনের সমাধি।এখানে কেউ মারা গেলে তারা কষ্ট পায় ঠিকই কিন্তু সেই আত্মিয়ের ফিউনারেলে তারা প্রচুর আনন্দ করে।কারন তাদের মতে তারা এত ভাল একজন মানুষকে জানতে পেরেছে,তার সাথে ভাল কিছু সময় কাটাতে পেরেছে… এইটাই আনন্দের কারন।

এই সেমেটারীটা ১৯৯৬ সালে World Monuments Fund Watch List-এর অর্ন্তভুক্ত হয়।অনেক সিনেমাতে এই সেমেটারীটা দেখানো হয়েছে,তার মধ্যে Interview With A Vampire অন্যতম।

লাফায়েট সেমেটারীর প্রধান ফটক

সারিবদ্ধ কিছু সমাধি

ফুলের শুভেচ্ছাযুক্ত ১টি সমাধি

আমাদের ট্যুর গাইড

ফুলের শুভেচ্ছা জানানো কিছু সমাধি

পাথরের সমাধি

দেয়াল সমাধি

Advertisements
This entry was posted in ভ্রমন and tagged , . Bookmark the permalink.

17 Responses to লাফায়েট সেমেটারী ট্যুর

  1. তৌফিক হাসান বলেছেন:

    লেখা ভাল হইসে। চালিয়ে যা…!!
    গুড লাক।

  2. সত্যিই ভূত আছে নাকি? 😯 আমি ভূতকে ডড়াই, আমি হলে জীবনেও যেতাম না, আর আপনি ভূত দেখার আশায় উত্তেজিত! সাহস আছে আপনার, আমার নেই 😦

    আমাদের দেশটা সত্যিই আজব। পুরোনো কবরগুলোতে মজিদেরা লালসালু বিছিয়ে ব্যবসা পেতে টাকা কামানোর ধান্দা করে, আর ওরা ট্যুরিজমের মাধ্যমে 🙂

    ভাল লাগল। ও হ্যা, আপনাদের গাইড কিন্তু সত্যিই অনেক স্মার্ট। শুভেচ্ছা রাহাত 🙂

  3. tusin বলেছেন:

    ভাল লাগল…………ছবিগুলো দেখে ভাল লাগল।আপনার লেখার হাত কিন্তু খুব খারাপ না।

  4. maq বলেছেন:

    ১।
    চমৎকার বর্ণনা!

    ২।
    পাশ্চাত্যের লোকজন স্বজনদের শেষকৃত আসলেই বেশ ঘটা করে উদযাপন করে। সামর্থ্যবানরা লাশটানা গাড়ীতে করে লাশ না নিয়ে গিয়ে লিমোজিনে চড়িয়ে কফিন নিয়ে যায়। ফিউনারেলের পর বেশ ভালোই ভোজ হয়।

    ৩।
    কোথায় যেন পড়েছিলাম যে সেমিট্রিগুলোতে সারা বছর ট্যুরিস্টের ভীড় লেগেই থাকে। ওদের বেশ ভালো আয় হয়। যে কারণে এসব সেমিট্রিগুলোর দেখভাল বেশ জোরেসোরেই করে থাকে সরকার।

  5. রাহাত-ই-আফজা বলেছেন:

    তানিম ভাই আপনার কাছে লেখাটা ভাল লেগেছে জেনে ভাল লাগলো। 🙂

  6. মুহাম্মদ তারেক বলেছেন:

    বর্ণনা এবং ছবি দুটোই ভালো হয়েছে। তবে শেষ হয়েও যেন হইলো না শেষ।

  7. ইফতেখার বলেছেন:

    ইইইইইই… শখ কতোওও!!!! :p :p :p

    ভাবী সুন্দর লেখেন তো 🙂
    অনেক অনেক শুভ কামনা।

  8. ইফতেখার বলেছেন:

    “ইশ… কেন যে ভূতগুলো দিনের বেলায় বের হয় না!!!”
    ইইইইইই… শখ কতোওও!!!! :p :p :p

    ভাবী সুন্দর লেখেন তো 🙂
    অনেক অনেক শুভ কামনা।

    • রাহাত-ই-আফজা বলেছেন:

      ইফতি আমার ভূত দেখার অনেক শখ। পারলে দেশ থেকে কয়েকটা ভুত বোতলে ভরে পাঠায় দিস। 😛

      শুভ কামনার জন্য অনেক অনেক ধইন্যাপাতা।লেখা ভাল লাগসে দেখে অনেক উৎসাহ পাইলাম। 🙂

  9. Rony Parvej বলেছেন:

    ভার্চুয়্যালি ঘুরে আসলাম। ভয় পাইনি একটুকুও।:D

  10. Rashedul Kabir বলেছেন:

    দেয়াল সমাধি জিনিসটা কেমন?

    • রাহাত-ই-আফজা বলেছেন:

      লাফায়েট সেমেটারীর একটা পুরো দেয়াল জুড়ে রয়েছে দেয়াল সমাধি। এই সমাধির জন্য তৈরি দেয়ালগুলো সাধারনত চওড়া হয় ৬ফিটের মত। ভেতরের অংশ ফাপা থাকে এবং ভেতরে ২ফিট/২ফিট করে বাক্সের মত থাকে।এই সমাধির দাম অন্য সমাধির থেকে তুলনামূলক কম।

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s